একটি সুস্থ লিভার প্রতিদিন আপনার শরীরের জন্য অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে রক্ত পরিষ্কার করা, পিত্ত তৈরি, শক্তি সঞ্চয়, এবং ক্ষতিকর পদার্থ দূর করা। কিন্তু যখন দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর খাবার, অতিরিক্ত চিনি বা চর্বি, অ্যালকোহল, বা কিছু রোগ (যেমন ডায়াবেটিস) প্রভাব ফেলে, তখন লিভারের কোষে চর্বি জমা হতে শুরু করে যাকে বলা হয় ফ্যাটি লিভার। এই পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না, তাই বেশিরভাগ মানুষ বুঝতেই পারেন না।
যদি এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তখন লিভারে ছোট ছোট দাগ (scar tissue) তৈরি হতে শুরু করে এটাই ফাইব্রোসিস। ধীরে ধীরে এই দাগ বাড়তে থাকে এবং লিভারের স্বাভাবিক গঠন ও রক্তপ্রবাহ পরিবর্তিত হয় যাকে বলা হয় সিরোসিস। অনেক ক্ষেত্রে এই পর্যায়েও মানুষ তেমন কোনো লক্ষণ অনুভব করেন না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে।
আরও জটিল অবস্থায়, দীর্ঘদিনের ক্ষতি থেকে লিভারের কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়ে ক্যান্সার (hepatocellular carcinoma) তৈরি হতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সব ফ্যাটি লিভার বা ফাইব্রোসিস ক্যান্সারে রূপ নেয় না, এবং সময়মতো শনাক্ত ও সঠিক যত্ন নিলে অনেক ক্ষেত্রেই এই অগ্রগতি ধীর করা বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আপনার প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এসবই লিভারের সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখে। কোনো ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা (যেমন লিভার ফাংশন টেস্ট, আল্ট্রাসাউন্ড ইত্যাদি) করানোও গুরুত্বপূর্ণ।
Reference: World Health Organization (WHO), American Liver Foundation, National Institutes of Health (NIH), CDC

