অলিভ অয়েল খেলে শরীরে  কী কী পরিবর্তন ঘটে

অলিভ অয়েল খেলে শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটে

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সুস্থ থাকতে অবদান রাখে। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে খাদ্যতালিকায় বিশেষ দৃষ্টি রাখা। প্রতিদিন নানা ধরনের খাবার খাওয়া হয় আমাদের। খাবার মুখরোচক হলেও সবই পুষ্টিকর হয় না। কখনো এমন খাবারও খাওয়া হয়, যা স্বাস্থ্যের ক্রমশ ক্ষতি করে থাকে। এ জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।

olive-oil-

খাদ্যতালিকায় অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল রাখলে উপকার মিলে। এটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা নিয়মিত খাওয়া হলে শরীরের ভেতর নীরবে গভীর পরিবর্তন ঘটতে থাকে। বিশেষ করে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, যা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও জৈব সক্রিয় উপাদানে ভরপুর। যা আপনাকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। অলিভ অয়েল নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরের কী কী উপকার হয়, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-

হার্টের ওপর প্রভাব:
প্রতিদিন অলিভ অয়েল খাওয়ার বড় উপকারিতা হার্টের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এই তেলে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরের ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে এবং ভালো এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে অবদান রাখে। এতে ধমনীতে চর্বি জমার যে আশঙ্কা থাকে, তা কমে। একইসঙ্গে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। নিয়মিত অলিভ অয়েল খাওয়া হলে হার্ট দীর্ঘদিন সক্রিয় ও সুস্থ থাকে।

প্রদাহনাশক ক্ষমতা:
অলিভ অয়েলের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এর প্রদাহনাশক ক্ষমতা। এতে পলিফেনল ও ভিটামিন ই উপাদান রয়েছে, যা শরীরের প্রদাহ হ্রাস করে। দীর্ঘদিন ধরে প্রদাহ থাকলে অনেক সময় ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ বা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ জন্য প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ অলিভ অয়েল খাওয়া হলে নীরব প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উপকারী:
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও উপকারী অলিভ অয়েল। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অলিভ অয়েল গ্রহণকারীদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি তুলনামূলক ভালো থাকে। এই তেলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে এবং বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশ বা স্নায়বিক সমস্যা কমাতে সহায়ক। আবার নিয়মিত গ্রহণ করার ফলে মনোযোগও বাড়ে।

হজমে সহায়ক:
হজমের ক্ষেত্রে অলিভ অয়েলের ভূমিকা অনবদ্য। পিত্তরস নিঃসরণে সহায়তা করে থাকে। ফলে খাবার খাওয়ার পর তা সহজেই হজম হয়। এই তেলের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট অন্ত্রের ভেতরের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত খাওয়া হলে কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্বল ও হজমের সমস্যা অনেক কমে।

হাড় ও জয়েন্টের জন্য উপকারী:
অলিভ অয়েল খাওয়া হলে শরীরের বিভিন্ন হাড় ও জয়েন্টের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখাসহ হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কমায়। এই তেলে বিদ্যমান প্রদাহনাশক উপাদান জয়েন্টের ব্যথা ও শক্তভাব কমাতে সহায়ক, বিশেষ করে বয়স্কদের সমস্যায় উপকারী অলিভ অয়েল।

প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান:
অলিভ অয়েল কোনো ধরনের ওষুধ নয়, এটি প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান। প্রতিদিনের রান্নায় বা কাঁচা অবস্থায় সালাদ, স্যুপ বা হালকা খাবারের সঙ্গে ব্যবহার করে খাওয়া যেতে পারে। পরিমিত পরিমাণ অলিভ অয়েল নিয়মিত খাওয়া হলে শরীরের জন্য উপকারী।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *