মরণ রোগ ব্রেস্ট ক্যানসার, রক্ষা পাবেন কীভাবে?

মরণ রোগ ব্রেস্ট ক্যানসার, রক্ষা পাবেন কীভাবে?

ব্রেস্ট ক্যানসার যদি একদম প্রাথমিক পর্যায় থাকে তাহলে ব্রেস্ট বা স্তন একেবারে কেটে বাদ না দিয়েও অপারেশন সম্ভব। ভারতে অন্যান্য ক্যানসারের তুলনায় ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই আজই সতর্ক হন এই মারণ রোগের ব্যাপারে। তবে কিভাবে সতর্ক হবেন?

ব্রেস্ট ক্যানসার
সম্প্রতি নিজের স্তন ক্যানসারের ব্যাপারে নিজেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী হিনা খান। এই মুহূর্তে ক্যানসারের প্রায় তৃতীয় ধাপে রয়েছেন হিনা। মহিলাদের মধ্যে ধীরে ধীরে ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতে অন্যান্য ক্যানসারের তুলনায় ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই আজই সতর্ক হন এই মারণ রোগের ব্যাপারে। তবে কিভাবে সতর্ক হবেন?

শরীরে ক্যানসারের জন্ম
ডাক্তারদের মতে, ব্রেস্ট ক্যানসার মূলত আমাদের শরীরে থাকা BRCA বা ব্র্যাকা নামক জিনের ত্রুটির কারণে দেখা যায়। আমাদের শরীরে এই বিআরসিএ বা ব্র্যাকা জিনের সংখ্যা দুটি। তার মধ্যে যে কোনও একটি জিনে কোনওরকম ত্রুটি দেখা দিলেই সেটি সরাসরি আমাদের শরীরে থাকা ডিএনএ-র উপর অত্যন্ত প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। এর ফলে সেখান থেকেই ক্যানসারের জীবাণু জন্ম নেয়। আর এই ক্যানসারের জীবাণু ধীরে ধীরে আমাদের শরীরের বিভিন্ন কোশে ছড়িয়ে পরার ফলেই একজন ক্যানসার দ্বারা আক্রান্ত হয়।

ব্রেস্ট ক্যানসার-এর লক্ষণ
ব্রেস্ট ক্যানসার শুরুর দিকে ধরা পরলে তা নিরাময়ের সম্ভাবনা প্রচুর। তাই স্তনে কোনরকম ব্যথাহীন লাম্প বা ফোলা অংশ দেখতে পেলেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও হঠাৎ নিপল দিয়ে রক্তক্ষরণ কিংবা স্তনের হঠাৎ আকৃতি বা রং বদলে যাওয়া, স্তনবৃন্ত ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া, বগলের দিকে ফোলা ইত্যাদি কিন্তু স্তন ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। তবে খেয়াল রাখা জরুরি যে ‘ব্রেস্ট লাম্প’ মানেই কিন্তু ক্যানসার এমন নাও হতে পারে। তবে তা অবশ্যই পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

কীভাবে বুঝবেন?
প্রতিদিন জামা পরার সময় নিজেই হাত দিয়ে স্তন পরীক্ষা করুন। কোনরকম অস্বাভাবিক ব্যথা বা লাম্প অনুভূত হলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

ভয়
শুধুই বৃদ্ধ বয়সে নয়, 24-30 বছরের নারীদের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্রেস্ট ক্যানসারের প্রবনতা। তবে অনেকেই ভয়ে বা লজ্জায় প্রথমে ডাক্তারের কাছে যেতে চান না। অনেকেই ভাবেন ডাক্তারের কাছে গেলেই স্তন কেটে বাদ দিতে হবে। তবে ক্যানসারের প্রথম ধাপে ধরা পরলে অপারেশনের মাধ্যমে স্তন কেটে বাদ দিতে হয় না। ‘BCT’ পদ্ধতির মাধ্যমে স্তন বাঁচিয়েও অপারেশন করা আজ সম্ভব হয়ে উঠেছে।

BCT কী?
ব্রেস্ট ক্যানসার যদি একদম প্রাথমিক পর্যায় অর্থাৎ Stage I, II (কিছু কিছু ক্ষেত্রে Stage III- তেও) থাকে তাহলে ব্রেস্ট বা স্তন একেবারে কেটে বাদ না দিয়েও অপারেশন সম্ভব। এক্ষেত্রে ‘অঙ্কোপ্লাস্টি’ পদ্ধতিতে শুধুমাত্র দেহ থেকে ক্যানসার বাদ দেওয়া হয়। এরফলে স্তন বাদ দেওয়ার কোনো দরকার পরে না। এর পর রেডিও থেরাপির মাধ্যমে ভবিষ্যতে শরীরে ক্যানসার ফিরে আসার সম্ভাবনা একেবারেই কমিয়ে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে, সাধারণত সার্জারির এক-দু’দিনের মধ্যেই রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কেমোথেরাপি
যদি কোনো কারণে রোগ নির্ণয় করতে দেরি হয়ে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে কেমোথেরাপির আবশ্যিক। Advance বা Locally Advanced Stage-এ প্রথমেই কেমোথেরাপি দিয়ে ক্যানসারকে ছোট করে ফেলা হয়। তারপর অপারেশন করা হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে অনেকসময় সার্জারির পর বায়োপসি রিপোর্ট অনুযায়ী কেমোথেরাপি দেওয়া হয়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *