ধীরে ঘরের সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছিলাম। রাত তখন অনেক হয়েছে। বাইরে হালকা বাতাস বইছে, চারপাশে একদম নীরবতা।
প্রতিদিনের মতো সেদিনও বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে মশারি টানাতে গেলাম। মশারির একপাশ ঠিক করতে করতে হঠাৎ আমার চোখ উপরের দিকে চলে গেল।
মশারির ওপরের অংশটা যেন অদ্ভুতভাবে নড়ছিল।
প্রথমে ভাবলাম হয়তো বাতাসের কারণে এমন হচ্ছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর মনে হলো, না, বিষয়টা ঠিক স্বাভাবিক নয়। বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধকধক করতে শুরু করল।
আমি কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে তাকিয়ে রইলাম। মনে হচ্ছিল, মশারির ওপরে যেন একটা ছায়া দেখা যাচ্ছে। মাথার ভেতর হাজারো চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগল। ভয় আর কৌতূহল একসঙ্গে কাজ করছিল।
সাহস করে একটু কাছে গিয়ে ভালো করে তাকাতেই রহস্যের সমাধান হয়ে গেল।
আসলে মশারির ওপরের দিকে একটি ছোট্ট বিড়াল উঠে বসেছিল। বাইরে থেকে জানালার আলো এসে তার ছায়াটা অনেক বড় করে মশারির ওপর ফেলেছিল। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন অন্য কিছু!
আমি হালকা হেসে ফেললাম। এতক্ষণ যে ভয় পেয়েছিলাম, সেটাই তখন হাসির কারণ হয়ে দাঁড়াল।
সেদিন একটা বিষয় নতুন করে বুঝলাম, অনেক সময় বাস্তবের চেয়ে আমাদের কল্পনাই ভয়কে অনেক বড় করে তোলে। অন্ধকারে ছোট একটি ছায়াও তখন বিশাল রহস্য মনে হয়।
তোমাদের কি কখনও এমন হয়েছে? কোনো সাধারণ ঘটনা দেখে ভয় পেয়ে পরে বুঝেছো, আসলে বিষয়টা একদমই স্বাভাবিক ছিল?

