যে প্রতিমা বদলে দিল দুই শিল্পীর ভাগ্য, সেই মায়ের বিদায়ে চোখ ভিজেছিল লাখো মানুষের!
কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে এক মায়াবী মুখ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। মাটির প্রতিমা যে এতটা জীবন্ত হতে পারে, চোখের কোণে এতটা মায়া আর ঠোঁটের কোণে এমন স্বর্গীয় হাসি থাকতে পারে, তা হয়তো ছত্তিশগড়ের রায়পুরের শ্যামনগরের এই প্রতিমাটি না দেখলে বিশ্বাস হতো না!
ভাস্কর লক্ষ্মী নারায়ণ চক্রধারী আর তাঁর ভাই পরমেশ্বর চক্রধারী হয়তো স্রেফ মাটি দিয়ে প্রতিমা গড়তে বসেছিলেন, কিন্তু তাঁদের হাতের ছোঁয়ায় আর ভক্তির জাদুতে স্বয়ং মা দুর্গা যেন জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছিলেন।
প্রথম দেখায় মনে হচ্ছিল, কোনো মাটির মূর্তি নয়, সাক্ষাৎ মা বেনারসি পরে মণ্ডপে এসে বসে আছেন।
কিন্তু মা শুধু মণ্ডপেই আসেননি, মা এসেছিলেন এই দুই অবহেলিত, কঠোর পরিশ্রমী শিল্পীর জীবন বদলে দিতে। মায়ের সেই মায়াবী মুখ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দেশ-বিদেশে। বাংলাদেশ থেকে ভারত, কোটি কোটি মানুষের ফোনে ফোনে ছড়িয়ে পড়ল মায়ের ওই মায়াবী মুখ।
আর তার সাথেই বদলে গেল লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা দুই প্রতিভাবান ভাইয়ের ভাগ্য। তাঁদের “LX Art Studio” আজ শুধু রায়পুরে নয়, পুরো দুনিয়ার মানুষের কাছে একটা আবেগের নাম!
বিজয়া দশমীতে যখন ক্রেন দিয়ে মাকে বিদায় জানানো হচ্ছিল, তখন মণ্ডপের ভক্তদের চোখ যেমন ভিজেছিল, তেমনি স্ক্রিনের ওপাশে থাকা আমাদের মতো লাখো মানুষের বুকেও একটা মোচড় দিয়েছিল।
মায়ের বিসর্জনের ওই রিলগুলো আজও দেখলে গায়ে কাঁটা দেয়।
সত্যিই, মা যখন আসেন, তখন শুধু আশিস দিতে আসেন না, তিনি ভক্তের নিষ্ঠা আর শিল্পীর সাধনার মর্যাদা দিয়ে তাঁদের জীবনটাও এভাবে বদলে দিয়ে যান।
জয় মা দুর্গা!

