গর্ভাবস্থা এমন একটি সময় যখন নতুন প্রাণের আগমনের আনন্দের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল মনে উঁকি দেওয়াটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যে অন্যতম সংবেদনশীল এবং সবচেয়ে বেশি জানতে চাওয়া প্রশ্ন হলো—গর্ভাবস্থায় কত দিন বা কত মাস পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখা নিরাপদ?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, গর্ভাবস্থা যদি স্বাভাবিক থাকে এবং চিকিৎসকের কোনো বিশেষ নিষেধাজ্ঞা বা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি না থাকে, তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার আগের মুহূর্ত বা একদম শেষ সময় পর্যন্ত সহবাস করা নিরাপদ। গর্ভাবস্থার প্রথম মাস থেকে শুরু করে নবম মাস পর্যন্ত গর্ভের শিশুটি জরায়ুর শক্ত পেশি, অ্যামনিওটিক ফ্লুইড (গর্ভফুল বা বিশেষ তরল) এবং জরায়ুমুখের মিউকাস প্লাগ দ্বারা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে। তাই শারীরিক সম্পর্কের ফলে শিশুর কোনো ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
তবে প্রতি গর্ভধারণের পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে, তাই কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি:
* কখন সহবাস এড়িয়ে চলবেন: পূর্বে গর্ভপাত (Miscarriage) বা সময়ের আগেই সন্তান প্রসবের (Preterm delivery) ইতিহাস থাকলে, প্লাসেন্টা প্রিভিয়া (গর্ভফুল নিচে থাকা) থাকলে, রক্তপাত হলে কিংবা তরল পানি ভাঙার লক্ষণ দেখা দিলে সহবাস থেকে একদম বিরত থাকতে হবে।
* সঠিক নিয়ম ও আরামদায়ক অবস্থান: গর্ভাবস্থার শেষের দিকে পেটের আকার বড় হয়ে যাওয়ার কারণে আরামদায়ক ও নিরাপদ পজিশন বেছে নেওয়া উচিত, যাতে পেটে কোনো ধরনের চাপ না পড়ে।
* চিকিৎসকের পরামর্শ: নিয়মিত পরীক্ষার সময় ডাক্তারের কাছ থেকে আপনার শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না তা জেনে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনার স্ত্রীর গর্ভকালীন স্বাস্থ্য অবস্থা নিয়ে কি কোনো নির্দিষ্ট জটিলতা বা চিকিৎসকের বিশেষ নির্দেশ আছে?
