অনেকে অবাক হন জেনে যে, ডাক্তাররা যখন সার্জারি শেখেন, তখন বাস্তব মানুষের শরীরে কাজ শুরু করার আগে বিভিন্ন বিকল্প উপায়ে সেলাই (suturing) অনুশীলন করেন। এর মধ্যে একটি মজার ও কার্যকর পদ্ধতি হলো আঙুর ব্যবহার করা।
আঙুরের খোসা খুবই নরম ও পাতলা, যা মানুষের ত্বকের মতো কিছুটা অনুভূতি দেয়। তাই নতুন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা আঙুরের উপর সেলাই প্র্যাকটিস করে সূক্ষ্ম হাতের কাজ শেখে। এতে তারা বুঝতে পারে কীভাবে সুই ঢোকাতে হয়, কতটা চাপ প্রয়োগ করতে হয় এবং সেলাইয়ের ফাঁক ঠিকভাবে রাখতে হয়। ভুল করলে আঙুর সহজেই ফেটে যায়, ফলে শিক্ষার্থীরা খুব সতর্কভাবে কাজ করতে শেখে।
শুধু আঙুরই নয়, আরও অনেক জিনিস ব্যবহার করা হয় প্রাথমিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণে। যেমন—কলা, কমলা, এমনকি কৃত্রিম সিলিকন প্যাডও ব্যবহার করা হয়। তবে আঙুরের ছোট আকার এবং নরম গঠন এটিকে বিশেষভাবে উপযোগী করে তোলে। এটি সহজলভ্য এবং খরচও কম, তাই অনেক মেডিকেল কলেজে এটি জনপ্রিয় একটি অনুশীলনের মাধ্যম।
এই ধরনের প্র্যাকটিসের মূল উদ্দেশ্য হলো হাতে দক্ষতা আনা। একজন সার্জনের জন্য নিখুঁত সেলাই করা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রোগীর ক্ষত দ্রুত ভালো হতে সাহায্য করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। তাই সরাসরি রোগীর ওপর কাজ করার আগে শিক্ষার্থীরা বহুবার এই ধরনের অনুশীলন করে নিজেদের প্রস্তুত করে।
বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। যেমন—ভার্চুয়াল সিমুলেশন, উন্নত মডেল এবং ডামি স্কিন। তবুও আঙুর বা ফলের উপর প্র্যাকটিস এখনো অনেক জায়গায় ব্যবহার হয়, কারণ এটি সহজ এবং কার্যকর।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আঙুর দিয়ে সেলাই প্র্যাকটিস করা কোনো মিথ নয়, বরং এটি একটি বাস্তব ও শিক্ষণীয় পদ্ধতি। এর মাধ্যমে ডাক্তাররা ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে ওঠেন এবং পরে বাস্তব জীবনে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন।

